আওয়ামী নেতা ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন বহাল তবিয়তে ; অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ছাত্র আন্দোলনে গন অভ্যুত্থানের পর দেশে আওয়ামী নেতাদের ক্ষমতা না থাকলেও এখনো বহাল তবিয়তে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ২ নম্বর সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার সালাউদ্দীন কামাল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও গণহত্যায় সহযোগিতার নানা অভিযোগ।

এই ইউপি চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী। বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ মানুষ এই মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে থেকে যদি তিনি জনগণের ওপর ভয়-ভীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেন, তাহলে এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি চরম হুমকি।”

বক্তারা আরও বলেন, সালাউদ্দীন কামাল গণহত্যার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার পরও চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকা শহীদদের প্রতি অবমাননা এবং প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মানববন্ধনে সালাউদ্দীন কামালকে অপসারণ করা না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়৷

মানববন্ধন শেষে সকল প্রমাণপত্র ও ডকুমেন্টারি তথ্য-উপাত্তসহ একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় , সালাউদ্দীন কামাল আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদে থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকায় চাঁদাবাজি, ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী মত দমন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত। তিনি এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রভাব বিস্তার করে সুশিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছেন। ২৪ আগস্ট শহীদদের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে নিহতদের পরিবার তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। তার কার্যক্রমের ফলে সাধনপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে সালাউদ্দীন কামাল সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কাজ করে আসছেন।