হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে বায়েজিদ মাজার পুকুর পাড়ে আবারো ভবন নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী পুকুরের পূর্ব পাড়ে কাছিম প্রজনন জায়গাটিতে আবারো ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছে একটি মহল।

২০০৯ সালে গণপূর্ত জায়গায় থাকা প্রায় ৩২টি দোকান উচ্ছেদ করে হাট হাজারী আসনের জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ভাই মহিউদ্দিন যোগসূত্রে এক ডেভলপার কোম্পানি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পায়তারা চালায়। পুকুরের অর্ধেক অংশ সহ ভরাট করে এই বহুতল ভবনের কাজ প্রক্রিয়া চালালে পরিবেশবাদী ও স্হানীয় জনগণের জোরালো প্রতিবাদ এবং হাইকোর্টের রিট পরবর্তী ২০১২ সালের ১২ মে নিষেধাজ্ঞা হলে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর পরও সুযোগ পেলেই মাজার কমিটি যোগসাজশে ভবন নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঐতিহাসিক নিদর্শন কাছিম যেখানে প্রজনন করে ঠিক সেই জায়গাটির উপর গুদামঘরের মতো একটা সেমি পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। সেখানে একজন সিকিউরিটি গার্ড রাখা হয়েছে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো সে একজন ফোরম্যান আছে বলে সে কাজ করছে জানান। ফোরম্যানকে খোঁজে পাওয়া যায়নি ও মাজার কমিটি উদাও। সরেজমিন থেকে ফিরে আসলে আবারো ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু দেয় বলে জানা যায়।

তবে স্হানীয়দের অভিযোগ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর কোনো অনুমোদন না নিয়ে দুবাই হোটেলের সাথে সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করার সুকৌশলে তিনতলা ভবন নির্মাণ করছে এই মাজার কমিটি। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও ক্ষমতা অপব্যবহার করে কিভাবে আবারো সুকৌশলে তিনতলা ভবন তৈরি করছে, এটা ঝুকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এই নিদর্শন কাছিম গুলোকে ধ্বংস করতে এবং প্রজনন যেন করতে না পারে সেই সুকৌশলে প্রজনন জায়গাটি বেছে নিয়েছে। এবং দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই মাজার কমিটি কাছিম গুলোকে মেরে ফেলতে। স্হানীয়রা জায়গাটি ও কাছিম গুলোকে রক্ষা করার জন্য পরিবেশ ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

চট্টগ্রাম পরিবেশবাদী আন্দোলনকারী নেতা আলিউর রহমান বলেন ২০১২ সালেই হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এখানে কোনো ভবন নির্মাণ করা যাবে না এবং কাছিম প্রজনন জায়গাটিকে সরকারি ভাবে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট সংরক্ষিত করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা আজও করে দেননি কেনো বিষয়টি রহস্য জনক। ওয়াকফ প্রশাসন নির্বিকার এবং মাজার কমিটির সাথে যোগসূত্র রয়েছে বলে তারাও কোনো পদক্ষেপ নেন না।

এদিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার এক বিএনপি নেতা (নামা প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে আওয়ামী কিছু নেতা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক জাফর আলম এর ভাই মিলে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টা চালায়। পরিবেশবাদীদের আন্দোলন ও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা হওয়ায় তারা ব্যর্থ হন। মাজার কমিটিরও একটা যোগসূত্র রয়েছে। তারাই আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ও নিদর্শন কাছিম প্রাণী গুলোকে মেরে ফেলার একটা ষড়যন্ত্র চলছে। প্রশাসনের উচিৎ এই মাজার কমিটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।।