ছাত্রলীগ নেতার ছাত্রদল হওয়ার খায়েশ, হতে না পেরে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে এমপি, এমপি পুত্র, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা যুবলীগের সভাপতি আওয়ামী লীগের টপ টু বটম সবার সাথে ঘনিষ্ঠ ফটোসেশান৷ ৫ আগস্টের আগেও ছাত্রলীগের লগোযুক্ত টিশার্ট পরিধান করে জয়বাংলা স্লোগানে গলা ফাটিয়েছেন। সেই নেতারই এখন খায়েশ কলেজ ছাত্রদলের নেতা হওয়ার৷ আর হতে না পেরেই কমিটিতে আসা লোকজনের উপর হামলা শুরু করেছেন৷

বলছিলাম সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডের ছাত্রলীগ নেতা নীরব মাহমুদের কথা। সীতাকুণ্ড ডিগ্রী কলেজের ছাত্র নিরব মাহমুদ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত। বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আমীন হত্যার প্রধান আসামি ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজীর অনুসারী নীরব৷ ৫ আগস্টের পর কতিপয় স্থানীয় বিএনপি নামধারী কয়েকজনের সাথে চলাফেরা করে ছাত্রদল নেতা বনে যাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হন তিনি।

জানা যায়, ছাত্রদলের জেলা কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৫ আগস্ট আশরাফ আলী জিকুকে সভাপতি ও একরামুল হক সিফাতকে সাধারণ সম্পাদক করে সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করে। এতে রিয়াজ হোসেনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাজ্জাদ হোসেন তারেক, কাউসার আক্তার রিয়া, নূর উদ্দিন জুয়েলকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়াও কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেক হোসেন ইমন ও সাজ্জাতুল ইসলাম এবং ওমর ফারুককে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে জেলা দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়৷

উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল এ কমিটির অনুমোদন দেন৷

এদিকে কমিটিতে সিভি জমা দিয়ে পদ পাননি নিরব মাহমুদ৷ আর এতেই বিশৃঙ্খলা শুরু করেন ক্যাম্পাসে৷ গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার আলিয়া মাদ্রাসার সামনে বনফুল শোরুমের ভেতরে ঢুকে কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক সিফাতের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় নীরব মাহমুদ। এসময় তার সাথে থাকা সন্ত্রাসীরা সিফাতকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে সিফাত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে৷ পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে নীবরের দলবলসহ পালিয়ে যায়। এসময় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফ আলী জিকুসহ যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন৷

জানতে চাইলে একরামুল হক সিফাত জানান, নীরব মাহমুদ ৫ আগস্টের আগেও ছাত্রলীগের চিহ্নিত একজন সন্ত্রাসী ছিল। কমিটিতে আসার চেষ্টা করেছে কতিপয় কয়েকজনের হাত ধরে৷ কিন্তু আসতে না পেরে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বনফুলে রাজনৈতিক সহকর্মীদের সাথে নাস্তা করতে যাওয়ার সময় আমার উপর ১৫-২০ জন নীরবের নেতৃত্বে হামলা করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। প্রকাশ্যে আমাকে বাজারে হামলা চালায় তারা। আমি এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় জিডি করেছি।

এদিকে অনেক চেষ্টা করেও নীরব মাহমুদের বক্তব্য জানা যায়নি। জানা গেছে, নীরব মাহমুদ (২২) বাড়বকুণ্ডের ভোলাইপাড়ার মো. ইলিয়াসের ছেলে৷

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল জানান, যেই ছেলেটা হামলা করেছে সে ছাত্রলীগের। আমাদের কলেজ কমিটিতে স্থান পাওয়ার সিফাতের উপর হামলা করেছে৷ সিফাত ইয়ার কমিটির দায়িত্বে ছিল এর আগে। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি উত্তর জেলা ৩১টি কলেজ ও মাদ্রাসা কমিটি ঘোষণা করেছে।