বায়েজিদ লিংক রোড়ে স্বৈরাচারের দোসর মনজুর আলমের অবৈধ তোরণ!

চট্টগ্রামের বায়েজিদ ফৌজদারহাট লিংক রোডে অনুমোদন ছাড়াই একটি স্থায়ী লোহার তোরণ নির্মাণ করে বসেছেন স্বৈরাচারের দোসর ও সাবেক চসিক মেয়র এম. মনজুর আলম। তার এমন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ আছে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি ছাড়াই গেটটি নির্মাণ করেন মনজুর আলম। যা ব্যক্তি প্রচারের বহি:প্রকাশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লিংক রোড়ের প্রবেশ মুখের ব্রিজের ১০০ গজ দূরেই সড়কের উপর গেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। লোহা দিয়ে তৈরি গেটটি ব্যানারে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। গেটের উপরের দুইপাশে দুটি গম্বুজ ও মাঝখানে কোরআন শরীফের আকৃতি দিয়ে স্টিলের মাধ্যমে ডিজাইন করা হয়েছে। মাঝখানে লেখা আছে, হযরত গাউছুল আজম আহমদিয়া রহমানিয়া আশেকানে মাইজভান্ডারী (গেইট)। গেটের দুই প্রান্তে ইটের ঢালাই দেওয়া হয়েছে যা চতুভূর্জ আকৃৃতির লোহার বারে তৈরি।

সচেতন মহল বলছে, এম. মনজৃুর আলম ৫ আগস্টের পর আবারও ভোল পাল্টে বিএনপি সাজতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে কাট্টলীতে বেড়িবাঁধের জায়গা দখল করে শেখ রাসেলের নামে মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করেন তিনি। পরে তা শেখ হাসিনাকে দিয়েই উদ্বোধন করান, ছিলেন আ জ ম নাছিরও। শুধু তাই নয় নিজেকে ‍মুজিব আদর্শের মানুষ হিসেবে দাবি করে শেখ মুজিবুর রহমানকে আল্লাহর অলী দাবি করে সেসময় কড়া সমালোচনার পাত্র বনে যান তিনি।

এদিকে মনজুর আলম বরাবরই চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বার্থপর চরিত্র হিসেবে পরিচিত। বিএনপি থেকে মেয়র নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে একাধিকবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে এমপি হতে চান তিনি। এসব কারণে যখন যার ক্ষমতা তখন তার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে কোন পদবীতে না থাকলেও নিজ উদ্যোগে বিএনপির রাজনৈতিক প্রচারে নেমে পড়েন আওয়ামী লীগের ঘরের লোক এম মনজুর আলম। অনেকে তাকে গুপ্তচর হিসেব্যে আখ্যা দেন। এবার মাইজভান্ডারের নাম দিয়ে তিনি ব্যক্তি প্রচারের এই কৌশল বেচে নিয়েছেন। যা অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলম মাইজভান্ডার শরীফের নামে এ তোরণটি নির্মাণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কোনো ধরনের অনুমতি দেয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ব্যস্ত এই সড়কে নির্মিত তোরণটি যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। বিশেষ করে ভারী ও অধিক উচ্চতার যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে মত তাদের। তোরণটির উচ্চতা ও অবস্থান সড়কের স্বাভাবিক দৃশ্যমানতা ব্যাহত করতে পারে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। যাতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো যায় এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা জানান, তোরণটির কোন বৈধতা নেই। তিনি একটি দরখাস্ত নিয়ে আসলেও কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটি করার অধিকার তার নেই।