ছাত্রদল নেতা সাইফুলকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিয়ে পুলিশের লুকোচুরি, পরিবারের ক্ষোভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহুর্তে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, পুলিশের গুলিতে পা হারানো সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বার্মা সাইফুলকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার আটকের খবর জানাতে নানা নাটকীয়তা করছে পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি দল তাকে হেফাজতে নেয়। তবে এ বিষয়ে সিএমপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেননি।

এদিকে হঠাৎ করে ঢাকা থেকে চিকিৎসা অবস্থায় সাইফুলকে গ্রেপ্তারে তার এলাকা বায়েজিদ বোস্তামী ও বার্মা কলোনীতে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি মহলের ইন্ধনে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই বর্তমানে৷ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় তৎকালীন পুলিশ লীগ তার পা ফেলে পঙ্গু করে দেয় চিরতরে। সাইফুল দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে৷ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

এ বিষয়ে সাইফুলের ভাই ছাত্রদল নেতা ও জুলাই যোদ্ধা মো. শাহীন অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তার ভাই ঢাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে ডিবির সদস্য পরিচয়ে কিছু লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর তারা চট্টগ্রাম পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউই আটকের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে আমাদের পরিবারের সাথে যা হয়েছে এখনও তাই হচ্ছে। ছাত্রদল করাই যেন আমার ভাইয়ের অপরাধ। তাকে দু:সময়েও নির্যাতন করা হয়েছে, একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে। চিরতরে পঙ্গু করা হয়েছে, এরপরও তারা ক্ষান্ত হননি৷ এবারও তাকে বিনা কারণে এরেস্ট করে নাটক মঞ্চস্থ করার প্রস্তুুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

২০২১ সালের জুনে বায়েজিদ বোস্তামী থানার তৎকালীন ওসি কামরুজ্জামান সাইফুল ইসলাম সাইফকে তুলে নিয়ে বায়েজিদের লিংক রোড় পাহাড়ে নিয়ে পায়ে গুলি করে৷ পরে পঙ্গু হাসপাতালে তার পা কেটে ফেলা হয়৷ এর পরপর পুলিশ তাকে ডজনখানেক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়৷ পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান তাকে কৃত্রিম পা লাগিয়ে দিতে দলের হাইকমান্ডকে নির্দেশ দেন৷ সেই প্রেক্ষিতে সাইফুলের শরীরে আর্টিফিশিয়াল পা স্থাপন করা হয়৷